LOADING....!!!!!

জয় সালমীর।এক মরু দেশ।অতি নিকটে।দিল্লী থেকে ৫৪৮ মাইল।ঠান্ডা আর গরমে মিলিয়ে এক মরুভুমী। রাজস্থানের এই মরুভুমিতে পাবেন,ক্যামেল রাইড ৫ কিলোমিটার, ফোর হুইলার সাফারী রাইড ২৫ কিলোমিটার। রাতে মুম্বাই ডিজে, রাজস্থানী ফ্লোক ড্যাঞ্চ। রাতে এসি তাবুতে রাত কাটানো, ফায়ার বল,আরো অনেক অনেক কিছু।বালু স্নান বা বালু থ্যারাপি তো এক মহা আনন্দ। ৫দিন ৪ রাত।ঢাকা থেকে দিল্লী বাই এয়ার এবং দিল্লী ঢাকা বাই এয়ার।পথে যোথপুরে এক দিন এক রাত থাকতে হবে আর্মি পার্মিশন এর জন্য। যাবেন নাকি পরিবার নিয়ে।

১২০০ শতাব্দীর শেষ ভাগে কুতুবুদ্দিন আইবেক এই মিনারের কাজ শুরু করেন।কিন্তু তার মৃত্যুর পর এর কাজ অনেক দিন বন্ধ থাকে।তিনি মাত্র প্রথম ধাপ টি শেষ করে যেতে পেরেছিলেন।তার পর ইলতুতমিস ১২৩০ সালে বাকি ধাপ গুলো শেষ করেন।১৩৬৮ সালে বর্জপাতে মিনার টি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।ফিরজ শাহ তুগলোক ১৪৮৯ থেকে ১৫১৭ সালে মাঝামাঝি সময়ে এটি মেরামত করেন।১৫০৩ সালে আবার এটি বজ্রপাতে ক্ষতি গ্রস্থ হয়। মিনার টি ৭২.৫ মিটার উচু। এর পাশে ই আলাউদ্দিন খিলজি ১৩০০ শতাব্দীর প্রথম দিকে কুতুব মিনারের দ্বিগুন উচ্চতা বিশিষ্ঠ আর এক টি মিনার স্থাপনা আরম্ভ করেন কিন্তু তার মৃত্যুর পর এই মিনার টির কাজ সম্পুর্ন বন্ধ হয়ে যায়। কুতুব মিনার প্রাঙনে আরো বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে যার ভিতর আলাই মিনার,মসজিদ অন্যতম

সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবনের করুন পরিনতীর জন্য তাজমহল এক টি গুরুত্ব পুর্ন অধ্যায়।তিন কোটি টাকায় তাজমহল নির্মান হয়েছিল যমুনার ঠিক পশ্চিম পাশে।এর উচ্চতা এমন যে, সূর্য যখন পশ্চিমে অস্ত যেত,তখন তাজ মহলের ছায়া যমুনা পেরিয়ে পুর্ব পাশের এক মাঠে প্রতিবিম্ব ফেলত।সম্রাটের অন্তিম ইচ্ছে ছিল তার কবর যমুনার পুর্বপাশে তাজমহলের ছায়া শীতল স্থানে হবে।সম্রাট শাহজান সে খানে সীমানা প্রাচীর নির্মান শুরু করলে , ছেলে আওরঙজেব এর প্রশ্নের উত্তরে, শাজাহান বলেছিলেন এখানে কালো তাজমহল নির্মান হবে।তখন মোঘোল সাম্রাজ্যে অনটন শুরু হয়।আওরঙজেব বাবার কথায় হিংস্র হয়ে তাকে বন্ধী করে ৮ বছর আগ্রা ফোর্টে রেখেছিলেন। সম্রাট শাহজাহান আগ্রা ফোর্টের উত্তর পশ্চিম বারান্দায় বসে তাজমহল দেখতেন।তখন তার দেখা শুনার জন্য মমতাজ বেগমের ছোট বোন শাহজাহানের সাথে থাকতেন। কালো তাজ মহল সম্পর্কে ছায়া তাজমহল তথ্য টি আমার কাছে গ্রহন যোগ্যো মনে হয়েছে। তাজমহলের পশ্চিম প্রান্তে বসে আমার ও মনে হয়েছে তাজমহলের ছায়া যমুনার পুর্ব প্রান্তে দেখা যায়।

গ্রীক রোমান সভ্যতার মিশ্র নিদর্শন ‘গাদারা’ বা ‘উম কায়েস’। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ মিটার উচু পাহাড় চুড়াতে নির্মিত এ বিশাল প্রাচীন পৌর-শহর আধুনিক সভ্যতার উৎকৃষ্টতর নির্দশন। খ্রীস্টপূর্ব চারশত অব্দে অর্থাৎ ২৪০০ বছর পুর্বে আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট নির্মাণ করেছিলেন এই বিখ্যাতপৌর শহর। শহরটির মাঝে আছে বিশাল কালো পাথরের স্টেডিয়াম। নিপুন ভাবে নির্মিত এ স্টেডিয়ামে বসে বিকালের সূর্যঅস্তের দৃশ্য পুলকিত করবে যে কারোর । আছে রাজ প্রাসাদ। আছে প্লট আকারে নির্মিত নগর বিন্যাস। এখানকার প্যানারমিক ভিউ আপনাকে মনেকরিয়ে দিবে যেনো কোন বিখ্যাত কোনো চিত্রকরের আল্পনার দৃশ্য। রোম সাম্রট পম্পের সময়কাল থেকে এই গাদারা শহর রোমান দের অন্তর্ভুক্ত হয়। রোমানরা লাইম স্টোন বা সাদা পাথরের শিল্পকলা তৈরি করেছিল। শহরটিরপুরো নির্মাণ সাদা এবং কালো পাথরের। সম্পুর্ণ নাগরিক সুবিধা সম্বলিত এ শহর টি ছিল শিক্ষা – চিকিৎসা -রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু।সায়ত্তশাসিত এ শহরটা ছিল আন্তর্জাতিক বানিজ্য রুটের কেন্দ্র বিন্দু দামেস্ক সহ পূর্বের দেশ গুলার সাথে বানিজ্যিক রুটের মধ্যে বিন্দু ছিল এই শহর। বানিজ্য নিয়ে নেবাটিয়ান দের সাথে প্রায়শই যুদ্ধবিগ্রহ লেগে থাকত ( নেবাটিয়ান দের নিয়ে অন্য একটি লেখা আছে, লিংক নিচে)। গ্রীক রোম উভয় সভ্যতার মধ্যবিন্দু ছিল এ শহর। রোমান সাম্রাজ্যের পতন শুরুহয় হারকিউলিক্সের সাথে মুসলমানদের সংঘাতের পরথেকে। রোমান পতনের পর মুসলমানদের অধীনে আসে এই শহর নাম হয় উম্ম কায়েস।

সম্রাট হুমাউন দিল্লীর দিনাপানহায়( Dinapanah)তার রাজধানী স্থাপন করেন।কিন্তু মহাপরাক্রম শালী সম্রাট আকবর রাজধানীকে যমুনা নদীর পশ্চিম প্রান্তে আগ্রায় স্থানান্তর করেন।তিনি সে খানে দুর্ভেদ্য “আগ্রা ফোর্ট” নির্মান করেন।এর চারিদিকে পরিখা খনন করে এক টি ছোট খাল সৃষ্টি করেন।কথিত আছে এই খালে তিনি কুমির পুসতেন।প্রধান প্রবেশ পথ টি কে তিনি এই ভাবে নির্মান করেন যে, প্রয়োজনে এই প্রবেশ পথ সরিয়ে নেয়া যেত যাতে পরিখা পেরিয়ে দুর্গ আক্রমন অসম্ভব ছিল।আকবর ১৫৬৫ থেকে ১৫৭১ সাল পর্যন্ত সময়ে এটি নির্মান শেষ করেন কিন্তু শাহজাহানের শাষন শেষ পর্যন্ত এটির নির্মান কাজ চলতে থাকে। শাহজাহানের আমলে এটি শুধু দুর্গ ই ছিলনা।এটি তার রাজ দরবার হিসেবে ও ব্যাবহ্রত হত।ফোর্ট টির চারটি গেট এবং ৭০ ফিট উচ্চতার দুই টি দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত ছিল।এই দুর্গের ভিতর অনেক গুল অট্টালিকা ছিল যার অনেক গুল এখনও বিদ্যমান।এর মাঝে এক টি হলো জাহাংগীর মহল যে খানে আকবরের স্ত্রী জোদা বাঈ বসবাস করতেন।এ ছাড়াও খাস মহল,শিশ মহল,হাম্মাম,মউসাম্মান বুরুজ(Musamman Burj) ছিল সব থেকে দৃষ্টি নন্দন প্যালেস যা সব থেকে রোমান্টিক,অলংকৃত, যে খানে মোঘল সাম্রাজ্যের মহা পরাক্রমশালী দুই জন রানী,জাহাঙীরের স্ত্রী নুরজাহান এবং শাহজাহানের স্ত্রী মমতাজ মহল বাস করতেন। ১৬৩৬-৩৭ সালে শাহজাহান দেওয়ানী খাস নির্মান করেন যে খানে তিনি বিদেশী দুত এবং সমাজের গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে আলোচনা করতেন। শাহজাহানকে তার পুত্র আওরঙজেব বন্দী করে এই আগ্রা দুর্গের পুর্ব উত্তর কোনে এক টি দোতালা ঘরে ৮ বছর বন্দী করে রেখেছিলেন যে খানে ছোট্ট একটি আঙিনা রয়েছে আর রয়েছে যমুনা মুখি এক টি বারান্দা,যে খান থেকে শাহজাহানের প্রিয় তাজমহল দেখা যেত।তখন শাহজাহানের দেখা শুনার জন্য মমতাজ মহলের ছোট বোন শাহজাহানের সাথে থাকত।এই বারান্দায় বসে তাজমহল দেখতে দেখতে শাহজাহান মৃত্যু বরন করেন। আগ্রা ফোর্টের অভ্যন্তরে মাচ্চি ভবন,নাগীনা মসজিদ,দেওয়ানী আম,মতি মসজিদ,মিনা বাজার অন্যতম।

‘অথ দারাশুকো চরিত্র’ মুঘল সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্র ছিল। জেষ্ঠ্য পুত্রের নাম ছিল দারা বা ‘ডেরিয়াস’, দ্বিতীয় পুত্রের নাম ছিল সুলতান সুজা বা ‘বীর রাজকুমার’, তৃতীয় পুত্রের নাম ছিল ঔরঙ্গজেব বা ‘সিংহাসনের শোভা’, চতুর্থ তথা কনিষ্ঠ পুত্রের নাম ছিল মুরাদ বা ‘সার্থক কামনা’। এই ধরণের নামকরণ করা ছিল মুঘল রাজবংশের ধারা। যেমন শাহজাহানের স্ত্রী’র নাম ‘তাজমহল’ অর্থাৎ ‘মমতাজ’ অর্থাৎ ‘বিবি মহলের তাজ স্বরূপ শ্রেষ্ঠা মহিষী’। এই তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায় বর্নিয়ের উল্লেখিত ভ্রমণ বৃত্তান্তে। বর্নিয়ে লিখিত ভ্রমণ বৃত্তান্ত কে ভারতে মুঘল শাসনের একটি ঐতিহাসিক আকর বলা হয়। ফরাসি পর্যটক বর্নিয়ে ১৬৫৮ সালের শেষের দিকে বা ১৬৫৯ সালের গোড়ার দিকে ভারতে (গুজরাট রাজ্যের সুরাটে) এসে উপস্থিত হন। তখন বকলমে ভারতের সম্রাট শাহজাহান। কিন্তু তাঁর ছেলেদের মধ্যে শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ, মুঘল সিংহাসনের দখল নিয়ে। বর্নিয়ে যখন ভারতে উপস্থিত হয়েছেন তখন, আজমেরের কাছে দারার সাথে ঔরঙ্গজেবের সেনাদলের যুদ্ধ চলছে। খুব সম্ভবতঃ ১৬৫৯ সালের ১২ই/১৩ই মার্চ বর্নিয়ে যখন সুরাট থেকে আগ্রার দিকে যাচ্ছিলেন, তখন রাজকুমার দারার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ও পরিচয় ঘটে। সেকালের শিক্ষা-দীক্ষার কথা ভাবলে বর্নিয়ে কে রীতিমতো একজন উচ্চ শিক্ষিত লোক বলতে হয়। শুধুমাত্র সাধারণ শিক্ষা নয়, বিজ্ঞান শিক্ষার দিকে বর্নিও এর আগ্রহ ছিল খুব বেশি। তিনি কোনও সাধারণ পর্যটক বা সৌখিন ট্যুরিস্ট ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক-পর্যটক, যা শুনতেন সেটা অন্ধের মতন মেনে নিতেন না, নিজের বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করে সেটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে হলে তবেই তিনি সেটা গ্রহণ করতেন। তাঁর সমকালীন অন্যান্য পর্যটকদের দেখার সাথে তাঁর দেখার বা দৃষ্টিভঙ্গির একটা বিরাট পার্থক্য রয়েছে, সেগুলো তাঁর লেখা পড়লেই স্পষ্ট করে বোঝা যায়। তাঁর গুণের পরিচয় পেয়ে দারা তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। দারা তখন ঔরঙ্গজেবের হাতে যুদ্ধে পর্যদস্তু হয়ে সিন্ধু প্রদেশের দিকে পলায়ন করছিলেন। বর্নিয়ে সম্ভবতঃ পলাতক দারা ও তাঁর সাঙ্গ-পাঙ্গদের সাথে গোরুর গাড়ি করেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে তাঁর দ্বিচক্র গো-যানটি বিকল ও অচল হয়ে যায়। দারার পক্ষে অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না এবং অন্য কোনও যানের জন্যও অপেক্ষা করার সময় ছিল না। অগত্যা দারা তাঁর বিদেশি বন্ধু কে পথের মধ্যেই ফেলে রেখে পালাতে বাধ্য হন। তখন আবার চোর ডাকাতের উপদ্রব ছিল সাংঘাতিক। বর্নিয়ে চোর-ডাকাতদের হাতে পড়ে নির্যাতিত ও লুন্ঠিত হন। কোনও মতে তিনি নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে আমেদাবাদে আসেন। সেখানে দিল্লীগামী এক সম্ভ্রান্ত মোঘলের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তাঁর সঙ্গে তিনি দিল্লী যাত্রা করেন। দিল্লী পৌঁছে নিজের আর্থিক দুরবস্থার জন্য তিনি সম্রাট ঔরঙ্গজেবের অধীনে গৃহচিকিৎসকের চাকরি নিতে বাধ্য হন। উল্লেখ্য যে বর্নিয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রে বেশ দক্ষ ছিলেন। নিজের দেশে থাকার সময়ে তিনি, ১৬৫২ সালের জুলাই মাসে চিকিৎসাবিদ্যায় ‘লাইসেনসিয়েট’ পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হয়েছিলেন এবং আগস্ট মাসে চিকিৎসাবিদ্যায় ‘ডক্টর’ উপাধি পেয়েছিলেন। কিছুদিন তিনি তৎকালীন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রভাবশালী ওমরাহ দানেশমন্দ খাঁ’র অধিনেও চাকরি করেছিলেন। তাঁর সান্নিধ্য ও অন্তরঙ্গতা লাভ করেই বর্নিয়ে মুঘল রাজদরবার ও বংশের অনেক গোপন কথা, আদব-কায়দা ইত্যাদি জানতে পেরেছিলেন। উল্লেখ্য যে সম্রাট ঔরঙ্গজেবের কাশ্মীর অভিযানের সময়ে বর্নিয়ে তাঁর সাথে ছিলেন। বর্নিয়ে ভারতে ছিলেন ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত। তিনি যখন মিসলিপত্তনম ও গোলকুন্ডা তে ছিলেন তখন তিনি শাহজাহানের মৃত্যু সংবাদ পেয়েছিলেন (২২শে জানুয়ারি ১৬৬৬ সাল)। ১৬৭০-৭২ সালের মধ্যে বর্নিয়ের ভ্রমণ বৃত্তান্ত ফরাসি ও ডাচ ভাষায় প্রকাশিত হয়, এবং আলোড়ন সৃষ্টি করে। ভারতে বর্নিয়ের ভ্রমণবৃত্তান্তের ইংরেজি অনুবাদ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতায়, ১৮২৬ সালে, সার্কুলার রোডের ব্যাপ্টিস্ট মিশন প্রেস থেকে। যেহেতু বর্নিয়ে খুব কাছ থেকে মুঘল সাম্রাজ্যের ধস নামতে থাকা সময়টি দেখেছিলেন ও শাহজাহানের পুত্রদের অত্যন্ত কাছ থেকে দেখেছিলেন, তাই বর্ণনা ও বিশ্লেষণ কে নিখুঁত বলা চলে। এই লেখার আলোচ্য বিষয়, রাজকুমার দারা’র চরিত্র বর্নিয়ের মতে শাহজাহানের জ্যেষ্ঠ পুত্র দারা যথেষ্ট সদগুনের অধিকারী ছিলেন। কথা-বার্তায়, আলাপ-আলোচনায়, আচারে-ব্যবহারে তাঁর মতন ভদ্র ও শিষ্ট আর কোনও রাজকুমার ছিলেন কিনা সন্দেহ। কিন্তু নিজের সম্বন্ধে তাঁর অত্যন্ত বেশি উচ্চ-ধারণা ছিল। তিনি ভাবতেন তাঁর মতন বুদ্ধিমান ব্যক্তি, আশেপাশে আর কেউ নেই এবং কোনও ব্যাপারে কারও সঙ্গে যে শলা-পরামর্শ করা যেতে পারে সেটা তিনি মনে করতেন না। তাঁর এই হামবড়াই ভাবের জন্য তাঁকে কেউ কোনও সদ-উপদেশ ও পরামর্শ দিতে সাহস করত না। এভাবেই তিনি তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু-বান্ধবদের কাছে অত্যন্ত অপ্রীতিভাজন হয়ে উঠেছিলেন। সিংহাসনের লোভে তাঁর ভাইদের গোপন চক্রান্তের কথা তাঁর বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে অনেকে জানলেও, তাঁর এই উদ্ধত স্বভাবের জন্য কেউ তাঁকে কিছু জানাতে সাহস করে নি। তবে কেবলমাত্র আত্ম-অহংকার তাঁর চরিত্রের একমাত্র দোষ ছিল না, এর সাথে যুক্ত হয়েছিল বদমেজাজও। তিনি ছিলেন ভীষণ রকমের বদমেজাজী। হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে যাঁকে যা খুশি বলতে তিনি একটুও ইতস্ততঃ করতেন না, হোমড়াচোমরা আমির-ওমরাহদেরও না। কথায় কথায় তিনি সকলকে অপমান করতেন, মায় গালাগালি পর্যন্ত দিতেন। যদিও তাঁর রাগের স্ফুলিঙ্গ দপ করে যেমন জ্বলে উঠত, তেমনি তাড়াতাড়ি নিভেও যেত। একজন মুসলমান হিসেবে তিনি নিজের ধর্মের ক্রিয়াকর্ম সবই করতেন, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর কোনও ধরনের ধর্ম-গোঁড়ামি ছিল না। তিনি হিন্দুদের সাথে হিন্দুর মতন মিশতেন আবার খ্রিষ্টানদের সাথে খ্রিষ্টানের মতন। তাঁর আশেপাশে সবসময় হিন্দু পন্ডিত ও শাস্ত্রকাররা থাকতেন, এবং তাঁদের খোলা হাতে বৃত্তি দিতে তিনি কোনও কার্পণ্য করতেন না। এই কারণে অনেকে তাঁকে ‘কাফের’ বলে মনে করত। জেসুইট ফাদারের সাথে তাঁর বিশেষ খাতির ছিল। শোনা যায়, রেভারেন্ড ফাদার বুজি’র ওপরে তাঁর প্রগাঢ় বিশ্বাস ছিল এবং তাঁর মতামত তিনি নাকি শ্রদ্ধাভরে শুনতেন। কাত্রু (Catru) বলে ওপর এক পর্যটক-লেখক, তাঁর ‘History of Mughal Dynasty in India’ বইতে (প্যারিস, ১৭১৫) দারার এই পাদ্রী-প্রীতির আরও বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন। ভেনিসীয় পর্যটক মনুচ্চির (Signor Manucci) সংগৃহিত তথ্যের উপর নির্ভর করে কাত্রু এই বই লিখেছিলেন। মনুচ্চি দীর্ঘদিন আগ্রা ও দিল্লীর রাজদরবারে চিকিৎসক ছিলেন এবং রাজকুমার দারার সাথে ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তাঁর মতে, দারা যখন থেকে কতৃত্ব শুরু করেছিলেন তখন থেকেই তাঁর ভিতরে অহংকার ও অন্যের প্রতি তাচ্ছিলের মনোভাব দেখা দিয়েছিল। যাইহোক, একদল লোক আবার বলত যে দারা কোনো ধর্মেই বিশ্বাস করতেন না, সব ধর্মের প্রতি তিনি কেবলমাত্র কৌতূহলবশে আগ্রহ দেখাতেন এবং নিছক মজা করার জন্য সকলের সাথে মিশতেন। কেউ কেউ আবার বলেন যে সবটাই ছিল তাঁর রাজনৈতিক মতলব, কোনও উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য তিনি সুবিধা মতন হিন্দুপ্রীতি ও খ্রিস্টানপ্রীতি দেখাতেন। মনুচ্চি দারার খৃস্টানপ্রীতি দেখে বলেছিলেন যে, দারা রাজা হয়ে গেলে, তাঁর সাথে খ্রিস্টানরাও দেশের হিন্দুদের রাজা হয়ে যেত! সম্ভবতঃ মোঘল গোলন্দাজবাহিনী তে খ্রিস্টান সংখ্যা বেশি ছিল বলে, তিনি তাঁদের সাথে সৌহার্য বজায় রাখতেন, কারণ তাতে সামরিক বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যেত। তিনি হিন্দুপ্রীতি দেখাতেন দেশীয় নৃপতিদের ক্ষেত্রে, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন হিন্দু, এবং রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র ও বিদ্রোহে যাঁদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাহায্য তাঁর দরকার ছিল। কিন্তু তাহলেও দারার এই ধর্ম-উদারতা কৌশল খুব বেশি কাজে লাগে নি, এবং তাতে তাঁর কোনো উদ্যেশ্যই চরিতার্থ হয় নি। উল্টে তাঁর ছোট ভাই ঔরঙ্গজেব তাঁর এই ‘ভণ্ডামির’ সুযোগ নিয়ে, তাঁকে ‘কাফের’ ও ‘ধর্মদ্রোহী পাষন্ড’ প্রতিপন্ন করে অনায়াসে তাঁর শিরচ্ছেদ করতে পেরেছিল। (তথ্যসূত্র: ১- বাদশাহী আমল, বিনয় ঘোষ। ২- শাহাজাদা দারাশুকো, কালিকারঞ্জন কানুনগো, মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ। ৩- Shah-Jahan: The Rise and Fall of the Mughal Emperor, Fergus Nicoll, PENGUIN INDIA (২০১৮)।) কৃতজ্ঞতা:রানা চক্রবর্তী

ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল। যে বাড়ীতে ইন্দিরাগান্ধীকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল।ছবিতে এক টি গাছের পাশে সিকিউরিটি পোস্ট আছে।ওখান থেকে ঠিক গ্লাস এর উপর থেকে হেটে যাওয়া ইন্দিরা গান্ধীকে গুলি করা হয়।দুজন আততায়ির এক জন আত্মসমার্পন করে আর এক জন কে গুলি করা হয় এবং সে আততায়ি ও মারা যান।

মোঘল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট হুমাউন, মোঘোল রাজ পরিবারের কবরস্থান এবং নিজের কবরের জন্য হুমাউন টম্ব নির্মান করেন। এখানে সর্ব মোট একশত জনের কবর রয়েছে।

লাল কিল্লায় খাস মহল ও দেওয়ানী খাস। এই খাস মহলে সম্রাটের রানীরা বসবাস করতেন। লক্ষ করলে দেখতে পাবেন এই মহলের চারিদিকে ঝরনা ছিল।সে যুগে কোন বিদ্যুৎ ছিল না কোন এক উচু স্থানে পানির আধার করে পানির প্রেসারে এই ঝরনা গুলর কার্যক্রম চলতো। এই রকম খাস মহল আগ্রাতে ও আছে। প্রথম ছবিটায় লক্ষ করলে দেখতে পাবেন ঝরনার উপরের অংশ । খাস মহলের পাশ এ ই ছিল দেওয়ানী খাস, যে খানে সম্রাট তার খাস বা কাছের লোক ,, বিদেশী দুত দের নিয়ে আড্ডা বা আলোচনায় বসতেন। খাস মহলে কোন দরজা ছিল না।সম্রাট খাস মহলে থাকা কালীন শূধু পর্দা দ্বাড়া ঢেকে দেয়া হত।

সম্রাট শাহজাহানের জীবনের শেষ ৮ বছর তিনি তার পুত্র আওরঙজেব কর্তিক আগ্রাদুর্গে বন্ধী জীবন যাপন করেন।বন্ধী করার সময় শাহজাহান আকুল আবেদন করেছিলেন যে,আগ্রা দুর্গের এমন এক জায়গায় তাকে যেন রাখা হয়, যে খান থেকে তাজমহল দেখা যাবে।দেয়াল ঘেরা গম্বুজ ওয়ালা প্রথম ছবিটির এই বাড়ী তে,সম্রাট কে রাখা হয়েছিল যে খানে, এক টি বারান্দা থেকে তাজমহল দেখা যেত।আর দ্বিতীয় ছবি টি হল ওই বারান্দা থেকে তাজ মহল কে কেমন দেখা যেত তার ই ছবি।